mohiner-ghoraguli-bhebe-dekhechho-ki

মহীনের ঘোড়াগুলি, যে ঘোড়াগুলির স্বপ্ন বেচার কোনো চোরা কারবার ছিলো না। সেই ঘোড়াদের কমান্ডার গৌতম চট্টোপাধ্যায় এই গানটা সেই সময়ে লিখেছিলেন যখন সবাই বলাবলি করছিলো, ও ঘোড়ারা-তোমাদের সামুদ্রিক জলকেলি আর কদ্দিন?  যন্ত্রনাময় পৃথিবীর সমস্যাসংকুলতা থেকে নিরাপর দুরুত্বে আর কতদিন থাকবে তোমরা? তার চেয়ে বরং তোমরা ফিরে এসো!

গজিয়ে উঠা এই ভক্তকুলের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা ফিরে এসেছিলো ১৯৯৫ সালে, তাদের সম্পাদিত এ্যালবাম ‘আবার বছর কুঁড়ি পরে’ নিয়ে। এর আগে সত্তরের দশকের শেষের দিকে ঘোড়াদের তিনটা এ্যালবাম বেরিয়েছিলো, সেখানে গান ছিলো মোট ৮ টি। কিন্তু এবার তারা প্রত্যাবর্তন করলেন একটু ভিন্ন রুপে। আর একা নয়,  তাদের সম্পাদিত এ্যালবামে তারা সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন একঝাঁক তরুনদের। তাদের মধ্যে krosswindz নামের নতুন এক অখ্যাত ব্যান্ডকে দিয়ে গাওয়ানো হলো গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পৃথিবীটা নাকি’ নামের বিস্ফোরক এক গান। গানটি এখনপর্যন্ত মহীনের সবচেয়ে বেশী কভার হওয়া গান এবং বলা চলে সবচেয়ে জনপ্রিয় গানও বটে। বলিউডের সংগীত পরিচালক প্রীতম এই গানের সুর ব্যবহার করে আমাদের নগরবাউল জেমসকে দিয়ে হিন্দি ছবি Gangster এ গায়িয়েছিলেন ‘ভিগি ভিগি’।
গানটার প্রথম শ্রোতা সেই নাগরিক চারণ অরুণেন্দু দাস। তিনি এই গান প্রথম শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে – ইয়াং জেনারেশন কিছু কিচু শুনেছে গৌতমের গান। সেদিনই গৌতম বলল ‘একটা নতুন গান শোনাচ্ছি। গিটারটা তো বাজানো হয় না আর, তবুও চেষ্টা করছি।’ গানটা আমায় নাড়িয়ে দিল। আরেকবার যখন শুনতে চাইলাম, ও বলল ‘তাহলে তোমরাও আমার সঙ্গে যোগ দাও।’

টেলিভিশন কিভাবে শহুরে উন্মত্ততা সৃষ্টি করেছে এবং কীভাবে সবার মধ্যে ফারাকের নয়া ফন্দি বাতলে দিচ্ছে এসব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে এই গানে। এই এ্যালবামের সাথে প্রকাশিত বুকলেটে গৌতম লিখেছিলেন ” এই আকাশ ফোড়া টিভি এন্টেনা, এই স্যাটালাইট, এই কেবল, এই বোকাবাক্সে বন্দী ছোটো পৃথিবীতে কী গাবো আমি? কি শোনাবো? তোমার আমার ফারাকের এই নয়াফন্দিতে শোনাবো কোন গান? আ হা হা হা”

ইউটিউবে শুনুন

 

লিখেছেনঃ গৌতম কে শুভ

Advertisements